
পঞ্চগড়ে সুগার মিল জামে মসজিদের খতিব শহিদুল ইসলাম ও এক তরুণীকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, ছবি ছড়িয়ে দেওয়া এবং সামাজিকভাবে হেয় করার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শহিদুল ইসলাম ও ওই তরুণী।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাগুরাপাড়া এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল ইসলাম বলেন, গত মঙ্গলবার সকালে ওই তরুণী তার স্বামীর জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত কাগজপত্র সংশোধনের জন্য ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে আসেন। সেদিন কাজ শেষ না হওয়ায় এবং পারিবারিক কারণে বাড়িতে যেতে না পারায় তিনি তার নানা শহিদুল ইসলামের কাছে আশ্রয় নেন।
তার ভাষ্য, রাতে ওই তরুণীকে খাবার দিতে গেলে স্থানীয় কয়েকজন সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাদের ছবি তোলা হয়। পরে ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শহিদুল ইসলামের দাবি, ঘটনাস্থলে তাকে নিয়ে মব তৈরি করা হয় এবং একপর্যায়ে তার কাছে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘটনাটির সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। বিষয়টি তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও মানসিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ওই তরুণী বলেন, পালিয়ে বিয়ে করায় তিনি বাড়িতে যেতে পারেননি। এ কারণে নানার কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন। রাতে নানা খাবার দিতে এলে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে এসে আপত্তিকর কথাবার্তা বলতে শুরু করেন। পরে তার ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, ঘটনার পর থেকে তিনি সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। নিজের সম্মানহানির অভিযোগ তুলে তিনি ন্যায়বিচার দাবি করেন।
এদিকে, গত মঙ্গলবার রাতে পঞ্চগড় সুগার মিল কলোনিতে খতিব শহিদুল ইসলাম ও ওই তরুণীকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ শহিদুল ইসলামকে ৫১ ধারায় আদালতে পাঠায়। পরে আদালত থেকে তিনি জামিন পান।
ঘটনার বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, স্থানীয়রা শহিদুল ইসলামকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করে। মব তৈরির বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সংশ্লিষ্টরা ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।