
চন্দ্রগঞ্জে জোনাকী বাস থামিয়ে চালককে পিটিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ, আটক ১
নিজস্ব প্রতিনিধি: রাফিউর রহমান
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে জোনাকী পরিবহণের একটি বাসের গতিরোধ করে চালককে লোহার রড দিয়ে মারধর এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতা বেল্লাল হোসেন (৩৮) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন পালিয়ে গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন ১০ নম্বর চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের চন্দ্রগঞ্জ বাজারস্থ জোনাকী পরিবহণ কাউন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, মো. স্বপন (৩৭) জোনাকী পরিবহণের ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-৩৮১২ নম্বরের বাসটি চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথে নোয়াখালীর বাংলাবাজার এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি বাসটির গতিরোধের চেষ্টা করেন। তাদের একজনের হাতে কালো লোহার লাঠি ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
চালক যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাস না থামিয়ে দ্রুত সামনে এগিয়ে যান। পরে চন্দ্রগঞ্জ বাজার এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্তরা ফের বাসটির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় বেল্লাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি বাসে উঠে চালককে হত্যার উদ্দেশ্যে হাতে থাকা কালো লোহার রড দিয়ে মাথা, ডান হাত ও ডান বাহুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। এতে চালক আহত হন।
একই সময় চালকের পকেটে থাকা নগদ ২ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলাকারীরা বাসে থাকা দুই সাক্ষীকেও মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে হামলাকারীরা বাস থেকে নেমে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে যাত্রীদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। এ সময় স্থানীয়রা বেল্লাল হোসেনকে আটক করতে সক্ষম হলেও অজ্ঞাতনামা আরও দুই ব্যক্তি পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের হাতে আটক বেল্লাল হোসেনকে হেফাজতে নেয়। এ সময় উত্তেজিত জনতার মারধরে আটক ব্যক্তিও আহত হন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
আটক বেল্লাল হোসেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার মোহাম্মদপুর গোলাবাড়িয়া (কসাই বাড়ী) এলাকার কালা মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বেল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক মামলাসহ মোট সাতটি মামলা চলমান থাকার দাবি করা হয়েছে। তবে এ তথ্যের স্বতন্ত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বাদী মো. স্বপন অভিযোগ করেন, হামলার পর বেল্লাল হোসেন তাকে প্রাণে হত্যার পাশাপাশি লাশ গুম করার হুমকি দিয়েছেন।
ঘটনার পর আহত চালক প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে পরিবহণ মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা ও স্বজনদের অবহিত করে চন্দ্রগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
নোট: প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগগুলো থানায় দায়ের করা এজাহারভিত্তিক। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত হবে।