ইয়াছিন আরাফাত, লক্ষ্মীপুর জেলা, প্রতিনিধি

মুক্তাগাছায় সৌদি প্রবাসীর বাড়ীর রাস্তা বন্ধ করে দিলেন কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রী

মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি;
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সৌদি আরব প্রবাসী আজিজুল ইসলামের বাড়ির যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুয়েত প্রবাসী আল আমিনের স্ত্রী নাজমা আক্তারের বিরুদ্ধে। এতে প্রায় দুই বছর ধরে বাড়িতে বসবাস করতে পারছেন না আজিজুল ইসলামের স্ত্রী-সন্তানেরা। বাড়ীর ভাড়াটিয়াদেরও সরিয়ে নিতে হয়েছে। ফলে কষ্টার্জিত অর্থে নির্মিত তিনতলা বাড়িটি এখন তালাবদ্ধ।
উপজেলার দুল্লা ইউনিয়নের চেচুয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাত শতাংশ জমির ওপর দুই ফুট প্রশস্ত চলাচলের পথসহ তিনতলা বাড়িটি নির্মাণ করেন আজিজুল ইসলাম। দীর্ঘ ২০ বছর সৌদি আরবে শ্রম দিয়ে উপার্জিত অর্থে স্ত্রী-সন্তানদের জন্য বাড়িটি নির্মাণ করেন তিনি।
আজিজুল ইসলামের পরিবারের অভিযোগ, প্রায় এক যুগ আগে প্রতিবেশী নাজমা আক্তারের কাছ থেকে দুই ফুট প্রশস্ত চলাচলের পথের জন্য জমি কেনেন তাঁরা। পরবর্তী সময়ে নাজমা আক্তার ও তাঁর বোন বিলকিস আক্তার বারান্দা ও গাইডওয়াল নির্মাণ করায় পথটি ক্রমেই সংকুচিত হয়ে যায়। বর্তমানে মাত্র ১০ ইঞ্চি জায়গা অবশিষ্ট রয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে না।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় প্রায় দুই বছর ধরে বাড়িটিতে বসবাস করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি ভাড়াটিয়াদেরও রাতারাতি সরিয়ে নিতে হয়েছে। ফলে বাড়িটি তালাবদ্ধ করে রাখতে হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিলকিস আক্তার কথা বলতে রাজি হননি। তিনি তাঁর ছোট বোন নাজমা আক্তারকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনার কথা জানালেও পরে তিনি আসেননি।
পরে মুঠোফোনে নাজমা আক্তারের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আজিজুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে তাঁদের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। তবে আজিজুলের ভাগিনাদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দেয়াল নির্মাণ করে চলাচলের পথ বন্ধ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিরোধের সমাধান হলে পথ খুলে দেওয়ার কথাও জানান নাজমা আক্তার।
এদিকে, স্থানীয়ভাবে বিরোধের সমাধান না হওয়ায় একাধিকবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেছে আজিজুল ইসলামের পরিবার।
এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, একজনের বাড়ির রাস্তায় বাঁধা বা বন্ধ করে দেওয়া অমানবিক। বাদী-বিবাদী উভয়ের স্বামীই বিদেশে থাকেন। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পর উভয় পক্ষকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।